দেশের বাজারে প্রচলিত জনপ্রিয় টুথপেস্ট নিয়ে এক উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এসডো (ESDO)-র সাম্প্রতিক গবেষণায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে পরিচালিত এই গবেষণায় বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টুথপেস্টে থাকা এই মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিয়মিত ব্রাশ করার সময় এই প্লাস্টিক কণাগুলো শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার ও হরমোনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া দাঁতের এনামেলের ক্ষতিসহ পরিবেশের ওপরও এটি বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
তবে আশার কথা হলো, পরীক্ষित ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে কিছু ব্র্যান্ডের নমুনায় কোনো ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। গবেষণায় তুলনামূলক নিরাপদ ও মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত হিসেবে চিহ্নিত টুথপেস্টগুলো হলো— দেশীয় ব্র্যান্ড জেনফ্রেশ (Zenfresh), প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি - ম্যাঙ্গো (Parachute Just for Baby - Mango), ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি (Close-Up Red-Hot Zinc Fresh Technology) এবং শিশুদের জন্য আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জ (Kodomo Orange)। সার্বিকভাবে পরীক্ষিত নমুনার মধ্যে মাত্র ৮টিতে কোনো ক্ষতিকর কণা পাওয়া যায়নি।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবিলম্বে টুথপেস্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত এবং ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে।
