২০১৮ সালের ২৬ মে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হক। সেই আলোচিত ও বিতর্কিত হত্যাকাণ্ডের সময় র্যাব-৭ এর অধিনায়ক (সিও) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। সম্প্রতি এই সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়ার খবরে তিনি দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন।
নিহত একরামুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সে সময় একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়েছিল, যা সারা দেশে তীব্র আলোড়ন ও সমালোচনার জন্ম দেয়। ওই অডিওতে একরামুলের স্ত্রী ও কন্যাদের আর্তনাদ এবং গুলির শব্দ স্পষ্ট শোনা গিয়েছিল। পরিবারটি প্রথম থেকেই এই ঘটনাকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে আসছিল। এই ঘটনার মূল নির্দেশদাতা ও দায়িত্বরত কর্মকর্তা হিসেবে বারবার তৎকালীন র্যাব-৭ এর অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দিনের নাম গণমাধ্যমে উঠে আসে।
জানা যায়, মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হন। সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুম-খুনের বিচার চেয়ে বিভিন্ন মহলের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতে এই সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তার আটকের মধ্য দিয়ে একরামুল হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন নিহতের পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীরা।
