"চাকরি চাই-দয়া নয়" — একটি প্রতিবাদী গল্প
মধ্যরাতে হঠাৎ মনে পড়ে গেল—
আমার একটা চাকরি দরকার।
জীবন থেকে মুছে ফেলতে হবে
‘বেকার’ নামক শব্দটা।
কিন্তু চাকরি কি আর মুখে বললেই পাওয়া যায়?
লাগে যোগ্যতা, লাগে পরিশ্রম, লাগে ধৈর্য—
আর কখনো কখনো মানুষের মুখে শুনতে হয়,
লাগে মামা, খালু, চাচার সুপারিশ।
তখন প্রশ্নটা বুকের ভেতরেই থেকে যায়—
যোগ্যতা থাকলেই কি চাকরি পাওয়া যায়?
কেউ বলে লিখিত পরীক্ষায় অনিয়ম,
কেউ বলে মৌখিক পরীক্ষায় পক্ষপাত,
আবার কেউ বলে—
টাকা কিংবা পরিচয় ছাড়া নাকি পথটা কঠিন।
একজন বেকার তরুণ তখন কী করবে?
দিনের পর দিন পড়বে,
রাত জেগে স্বপ্ন দেখবে,
পরীক্ষার হলে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে আসবে—
তারপরও যদি জানতে হয়,
তার যোগ্যতার জায়গাটা কেউ টাকা দিয়ে দখল করে নিয়েছে,
তাহলে তার ভেতরের স্বপ্নগুলো
কতটা সহজে ভেঙে পড়ে,
তা কি কেউ বোঝে?
আমরা রাষ্ট্রকে দায়ী করি।
হ্যাঁ, রাষ্ট্রের দায় আছে।
আইন তৈরি করা,
আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা,
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া
এবং যোগ্য মানুষের অধিকার রক্ষা করা—
রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—
যে ঘুষ দেয়, সে কি দায়মুক্ত?
যে ঘুষ নেয়, সে কি নির্দোষ?
কারণ অন্যায়ের দরজা খুলে যায়
একজনের দেওয়া ঘুষ
আর অন্যজনের নেওয়া ঘুষে।
একজন গরিব কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে
বছরের পর বছর পড়াশোনা করে
শুধু একটি চাকরির স্বপ্ন দেখে।
তার সেই স্বপ্ন কোনো বিলাসিতা নয়,
কোনো অনুগ্রহও নয়।
সে শুধু চায়—
তার যোগ্যতার মূল্যায়ন হোক।
কারও মামা-খালুর পরিচয়ে নয়,
কারও টাকার জোরে নয়,
কারও প্রভাবে নয়—
যোগ্যতা আর পরিশ্রমের ভিত্তিতে
একদিন তার নামটাও নির্বাচিত হোক।
কারণ বেকারত্ব শুধু একটি শব্দ নয়;
এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে
একজন তরুণের নীরব হতাশা,
একটি পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা,
আর একটি ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার স্বপ্ন।
তাই—
চাকরি চাই, দয়া নয়।
সুযোগ চাই, সুপারিশ নয়।
যোগ্যতার মূল্য চাই—
ঘুষের কাছে মাথা নত নয়।
