শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জনটি এমন কিসিমে সামনে আনা হচ্ছে, তা দেখে অনেকেই সন্দেহ করছেন যে তিনি বোধহয় অনেক আগেই পগারপার হয়েছেন। জিন জাতি কর্তৃক মসজিদের কাজ সমাপ্ত করতে যেমন হজরত সুলাইমান (আ.)-কে একটি লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল, তেমনি আওয়ামী ভূতগুলোকে শেষবারের মতো কাজে লাগাতে এআই প্রযুক্তি দিয়ে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে বলে অনেকে যুক্তি দিতে চাচ্ছেন। এরপর দেশে ঢুকতে গিয়ে কোনো এক এনকাউন্টারে মারা গেছেন—অন্ধ ভক্তদের মধ্যে আগের ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য এমন একটা ইমেজ দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
একশ্রেণির হাসিনাপ্রেমিকরা স্বপ্ন দেখছেন শেখ হাসিনা নিজের জীবন বিপন্ন করে হলেও দেশে ফিরবেন। একটি লিখিত সাক্ষাৎকার, কিছু অডিও বক্তব্য এবং বিদেশে নির্বাসিত কিছু নেতাকর্মী-বুদ্ধিজীবী এই প্রচারণাটি ছড়াচ্ছেন। আর দেশের ভেতরে প্রচারণার দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপিতে গুপ্ত কিছু আওয়ামী নেতা। তবে ইতিহাস বলে, শেখের খানদান সবসময় এ রকম প্রেমাস্পদ ভক্ত-সমর্থকদের পানিতে নামিয়ে আলগোছে শটকে পড়েছে! ১৯৭১ সালে শেখ মুজিব ‘যার হাতে যা আছে তাই নিয়ে রুখে দাঁড়ানোর’ ডাক দিয়ে নিজে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার ঐতিহাসিক নজির এর বড় প্রমাণ।
তাত্ত্বিকভাবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কয়েকটি পথ কল্পনা করা যায়। প্রথমত, নতুন একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন—যা বর্তমান বাস্তবতায় ডিসেম্বরের আগেই সৃষ্টি হবে—তা একমাত্র উন্মাদরাই কল্পনা করতে পারে। দ্বিতীয়ত, সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে গিট্টু বাজিয়ে সরকারকে ফেলে দেওয়া, যা বিএনপি ও জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে অসম্ভব ঠেকছে। তৃতীয়ত, বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত সীমিত। চতুর্থত, আদালতে আত্মসমর্পণ ও আইনি লড়াইয়ের বিষয়টি সামনে এলেও, ১৪০০ গণহত্যার অভিযোগ মাথায় নিয়ে স্বেচ্ছায় আইনের হাতে নিজেকে সমর্পণ করার মতো ঝুঁকি নেওয়ার কোনো রেকর্ড এই খান্দানের নেই।
