বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম শোকাবহ ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে অবস্থানকালে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হামলায় নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কীভাবে ঘাতকরা ভেতরে প্রবেশ করেছিল, তা আজও অনেককেই ভাবিয়ে তোলে।
ঐতিহাসিক তথ্য ও বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে জানা যায়, ২৯ মে দিবাগত রাতটি ছিল দুর্যোগপূর্ণ। মুষলধারে বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে প্রকৃতির অবস্থা ছিল ভয়াবহ। ঘাতক চক্র মূলত এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকেই তাদের অপারেশনের ঢাল হিসেবে বেছে নিয়েছিল। ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তারা সার্কিট হাউজের দিকে অগ্রসর হয়।
সার্কিট হাউজের নিরাপত্তায় থাকা রক্ষীরা বৃষ্টির কারণে কিছুটা অপ্রস্তুত অবস্থায় ছিলেন। ঘাতক দলটি অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রথমেই নিচতলায় থাকা নিরাপত্তা প্রহরীদের পরাস্ত করে। এরপর তারা রকেট লঞ্চার ও ভারী মেশিনগানের সাহায্যে সার্কিট হাউজের ভবনে আক্রমণ চালায়, যাতে চারদিকে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভবনের চার নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বাইরে প্রচণ্ড গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি বুঝতে পারেন অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে। পরিস্থিতি দেখতে বা হয়তো আক্রমণকারীদের নিবৃত্ত করতেই তিনি দরজা খুলে কক্ষের বাইরে বারান্দায় বেরিয়ে আসেন।
বারান্দায় বের হয়েই তিনি ঘাতকদের মুখোমুখি হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান ঘাতকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঘাতকরা তাকে বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়ে খুব কাছ থেকে ব্রাশফায়ার করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক প্রভাবশালী অধ্যায়।
