২০২৪ সালের জুলাই মাসের উত্তাল দিনগুলোতে কোটা সংস্কার ও ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল। দেশের সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক, লেখক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের নাগরিকেরা তাদের ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার লাল রঙে বা লাল বৃত্তে পরিবর্তন করতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে এই ‘লাল প্রোফাইল’ বা লাল রঙের আন্দোলন দাবানলের মতো পুরো দেশের ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
মূলত অনলাইন তথা সাইবার স্পেসে সংহতি প্রকাশ এবং চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছিল এই লাল রঙ। ফেসবুকের টাইমলাইনজুড়ে লাল রক্তের প্রতীকী ও প্রতিবাদী এই রূপটি স্বৈরাচারী ও নিপীড়ক শক্তির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাস থেকেও অসংখ্য বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশকারীরা এই লাল রঙের প্রোফাইল পরিবর্তন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার এই স্বতঃস্ফূর্ত ও গণজোয়ারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। লাল প্রোফাইল পিকচারের এই ডিজিটাল প্রতিরোধ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে এবং দেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে প্রতিবাদের বার্তা পৌঁছে দিতে এক ঐতিহাসিক অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল।
